Sign in | Create an account


পাওয়ার ব্যাংক কেনার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

View:458


Net Meter for Android

পাওয়ার ব্যাংক কেনার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

21 Nov, 2016    0


বর্তমান বাজারে অনেক কোম্পানির এবং বিভিন্ন দামের পাওয়ার ব্যাংক কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এই অবস্থায় একজন সাধারন ব্যবহারকারী প্রায়শই বিভ্রান্ত হয়ে পরে যে কোনটি কিনবেন আর কোনটি না কিনবেন তা নিয়ে। 

পাওয়ার ব্যাংক কেন ব্যবহার করবেন?

আজকাল মোবাইল ফোন গুলোর ডিজাইন অনেক স্লিম হয়ে গেছে, কার্যক্ষমতা অনেক বেড়ে গেছে কিন্তু ব্যাটারি লাইফ তেমন ভালো পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আগের তুলনায় মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ধরণও অনেক পাল্টে গেছে। তো এই অবস্থায় আমাদের প্রয়োজন পরে একটি পাওয়ার ব্যাঙ্কের, যাতে আমরা যখন চাই যেখানে চাই আমাদের ফোনকে চার্জ করতে পারি এবং আবার ব্যাবহারের জন্য উপযোগী করে তুলতে পারি। তো এই পোর্টেবল সুবিধার কারণে এটি দিনদিন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

why i use power bank

ক্যাপাসিটির দিকে খেয়াল রাখুনঃ

বর্তমান বাজারে ১,৫০০ এমএএইচ থেকে শুরু করে ২০-৩০ হাজার এমএএইচ পর্যন্ত ক্যাপাসিটির পাওয়ার ব্যাংক কিনতে পাওয়া যায়। বেশি রিচার্জ সাইকেল চাচ্ছেন নাকি বেশি পোর্টাবিলিটি চাচ্ছেন এর উপর নির্ভর করে আপনাকে একটি ক্যাপাসিটি পছন্দ করতে হবে। মনে করুন আপনার ফোনের ব্যাটারি ২,৫০০ এমএএইচ এবং আপনার পাওয়ার ব্যাঙ্কের ক্যাপাসিটি ১০,০০০ এমএএইচ। এর মানে কিন্তু এটা নয় যে আপনি আপনার ফোনকে ৪ বার রিচার্জ করতে পারবেন। প্রোডাক্ট টির গায়ে যদি ১০,০০০ এমএএইচ লেখা থাকে তবে এর ক্যাপাসিটি ১০ হাজার এমএএইচ ই হবে, কোম্পানি আপনাকে মিথ্যা কথা বলে না। কিন্তু যখন আপনার ফোনটিকে চার্জ করেন তখন কিছু এনার্জি লস হয়ে যায়। বাস্তবিকভাবে ৭৫-৯৫% কর্মদক্ষতা পাওয়া যায়। যদিও কর্মদক্ষতার শতকরা হার নির্ভর করে বিভিন্ন কোম্পানির উপর। 

 

সর্বউত্তম পারফর্মেন্স পেতে ৮-১০ রিচার্জ সাইকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করুনঃ

পাওয়ার ব্যাংক প্রথম ৮-১০ রিচার্জ সাইকেল সম্পূর্ণ করার পরেই তার সর্বাধিক কার্যক্ষমতা প্রদর্শনের অবস্থায় প্রবেশ করে। আপনি একটি প্রোডাক্ট কিনলেন এবং মাত্র এক কিংবা দুইবার চার্জ করেই বুঝে যাওয়া সম্ভব হবে না যে প্রোডাক্ট টি ভালো না মন্দ। আপনাকে ৫-৬ বার এটাকে ব্যবহার করতে হবে 

 

পাস থ্রু চার্জিং ফিচার আছে কিনাঃ

পাওয়ার ব্যাংক কেনেন তখন তার সাথে শুধু একটি ইউএসবি ক্যাবল থাকে। আপনাকে নতুন পাওয়ার অ্যাডাপটার দেওয়া হয়না চার্জ করার জন্য, কেনোনা আপনার ফোনের সাথে তো পাওয়ার অ্যাডাপটার আগে থেকেই থাকে। আর আপনি যদি কোথাও ঘুরতেও যান এগুলোর সাথে তো আপনি তো আর দুইটি আলাদা আলাদা পাওয়ার অ্যাডাপটার নিয়ে যাবেন না তাই না? মনে করুন আপনি পাওয়ার অ্যাডাপটারের সাথে পাওয়ার ব্যাঙ্ককে সংযোগ করলেন এবং পাওয়ার ব্যাঙ্ককের সাথে আপনার স্মার্টফোনকে। এখন আপনার পাওয়ার ব্যাঙ্ককে যদি পাস থ্রু চার্জিং ফিচার থাকে তাহলে কি হবে দেখুন। তাহলে প্রথমে আপনার ফোনটি চার্জ হবে বিদ্যুৎ থেকে তারপর আপনার পাওয়ার ব্যাঙ্কটি চার্জ হবে। এই ফিচারটি সকল পাওয়ার ব্যাঙ্কে থাকেনা। এটি অনেক প্রয়োজনীয় একটি ফিচার এবং আপনি একই অ্যাডাপটার এর সাহায্যে একসাথে দুইটি ডিভাইজই চার্জ করতে পারবেন।

 

প্রোটেকশনঃ

একটি হাই-ক্যাপাসিটি ব্যাটারি বহন করছেন, সেটা আপনার পকেটে হোক আর আপনার ব্যাগে হোক। তো এই অবস্থায় প্রোটেকশন অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পরে। পাওয়ার ব্যাঙ্কের প্রস্তুতকারী বড় কোম্পানি সমূহ আপনাকে মুলত ৪ টি প্রোটেকশন দিয়ে থাকে।

  • ওভার চার্জিং প্রোটেকশন
  • ওভার ভোল্টেজ প্রোটেকশন
  • সর্ট সার্কিট প্রোটেকশন
  • অধিক মাত্রায় গরম হওয়া থেকে প্রোটেকশন

 

 

আউটপুট পোর্টস গুলো দেখে নিনঃ

কিছু পাওয়ার ব্যাঙ্কে ১ টি সিঙ্গেল আউটপুট পোর্ট দেখতে পাওয়া যায় আবার কিছু পাওয়ার ব্যাঙ্কে ৩-৪ টি আউটপুট পোর্টস দেখতে পাওয়া যায়। এখন আপনি কোনটি পছন্দ করবেন তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার ব্যাবহারের উপর। আপনি যদি একটি ডিভাইজ চার্জ করতে চান তবে সিঙ্গেল আউটপুট পোর্ট কিনতে পারেন যদি একাধিক ডিভাইজ চার্জ করতে চান তবে ৩-৪ পোর্ট ওয়ালা কিনতে পারেন। 

কুইক চার্জিং প্রযুক্তি আছে কি নাঃ

যে পাওয়ার ব্যাঙ্কে কুইক চার্জিং প্রযুক্তি থাকে সেই পাওয়ার ব্যাংক নিজে তো অনেক দ্রুত চার্জ হয়েই যায় আবার সাথাসাথি আপনার ফোনকেও অনেক দ্রুত চার্জ করতে পারে। এমন অবস্থায় একটি কোম্পানি আছে যার নাম অকি, এদের প্রোডাক্ট কুইক চার্জিং সমর্থন করে। এবং অনেক ভালো মানের প্রোডাক্ট এরা বাজারজাত করে থাকে। আপনার ডিভাইজ দুইটিই যদি কুইক চার্জিং প্রযুক্তি ওয়ালা হয় তবে আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্যাবল লাগিয়ে বসে থাকতে হবে না। মাত্র ৩০ মিনিট বা ১ ঘণ্টাতেই অনেক খানি চার্জ করে ফেলতে পারবেন। আর হাঁ, আরেকটি কথা, আপনার ফোনটি যদি কুইক চার্জিং সমর্থন না করে তবে কুইক চার্জিং পাওয়ার-ব্যাংক কিনে কোন লাভ হবে না। 

 

ভালো কোম্পানির পাওয়ার ব্যাংক কিনুনঃ

ওমি কোম্পানির পাওয়ার ব্যাংক অনেক ভালো হয়ে থাকে। তাছাড়া হুয়ায়ের ১৩ হাজার এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক অনেক ভালো হয়। তাছাড়া ওয়ান প্লাস, সনি, স্যামসাং সহ আপনি যেকোনো একটি নামধারি কোম্পানির পাওয়ার-ব্যাংক কিনতে পারেন।

ক্যাবল দেখে কিনুনঃ

কিছু কিছু পাওয়ার ব্যাঙ্কে একদম লাগানো ক্যাবল দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আলাদা ক্যাবল লাগানো থাকে। আপনি যদি একদম সহজ পোর্টাবিলিটি চান বা আপনি যদি আলাদা ক্যাবল বহন করার ঝামেলা না করতে চান তবে ইন-বিল্ড ক্যাবল ওয়ালা পাওয়ার-ব্যাংক কিনতে পারেন।

সবচাইতে জরুরী কিছু পয়েন্টঃ

সাধারন বাজার থেকে সস্তা পাওয়ার-ব্যাংক কিনবেন না। এটি একদম আবর্জনা হতে পারে, আপনি একটুও ব্যাবহারে শান্তি পাবেন না। একদম ফালতু কোয়ালিটির ব্যাটারি দেবে আপনাকে। আপনি হয়তো দেখেছেন একটি সস্তা বাজারে ৩০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার এমএএইচ এর পাওয়ার-ব্যাংক কিনতে পাওয়া যায় মাত্র ৫০০ বা ১,০০০ টাকায়। আসলে ওটা ব্যাস কৌটার উপর একটা স্টিকার লাগানো থাকে। তো এই সকল পাওয়ার ব্যাংকস একদম বেকার, ফালতু, নকল। তো দয়া করে এইসব পাওয়ার ব্যাংকস একদমই কিনবেন না। আপনি শুধু মাত্র সুনামধারী কোম্পানির পাওয়ার ব্যাংকস কিনবেন। 

 

Comments