Sign in | Create an account


ফোন কি রুট করা উচিৎ

View:671


Net Meter for Android

ফোন কি রুট করা উচিৎ

17 Nov, 2016    0


রুট শুধু মাত্র অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেম এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ শুধু মাত্র অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বা অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট অথবা অ্যান্ড্রয়েড চালিত যেকোনো ডিভাইজ রুট করা সম্ভব। এখন দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো এই রুট কি জিনিস? দেখুন রুট শব্দের বাংলা অর্থ হলো “শিকড়”। রুটিং করার মানে হলো ফোনের সফটওয়্যারের শিকড়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া। এবং সেখানে পৌঁছে যাওয়ার পরে ফোনটির সফটওয়্যারের সকল নিয়ন্ত্রন আপনার হাতে হয়ে যাবে। 

রুটিং এর সুবিধা সমূহ:

advantages of android phone/mobile rooting

প্রথম সুবিধাটি হলো একবার আপনি আপনার ফোনকে রুট করে নিলেন তারপর আপনি আপনার ফোনটির সাথে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। যা ইচ্ছা তাই বলতে একদম যা যা আপনার ইচ্ছা। প্লে স্টোরে এমন অনেক অ্যাপ আছে যারা শুধু রুটেড ফোনকে সমর্থন করে থাকে। এবং সেই অ্যাপ গুলো ডাউনলোড করার পরে অ্যাপ গুলোকে সুপার ইউজার অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে তাদেরকেও আপনি ফোনটির মূল পর্যন্ত প্রবেশের অনুমতি দিতে পারেন। এবং সেই অ্যাপ গুলো সফটওয়্যারের মূলে প্রবেশ করে আপনাকে অসাধারন সব কার্যক্ষমতা দেখাতে সক্ষম হবে। রুট করার পরে এমন হাজারো অ্যাপ আছে যার দ্বারা আপনি হাজারো ফিচার উন্মুক্ত করতে পারবেন। যেমন ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়াতে পারবেন, ওভার ক্লকিং করাতে পারবেন, প্রসেসর আন্ডার ক্লকিং করাতে পারবেন, ফোনের রম পরিবর্তন করতে পারবেন ইত্যাদি। 

দ্বিতীয়ত আপনার ফোনকে রুট করার পরে আপনি চাইলে আপনার ফোনে থাকা অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম অ্যাপ গুলো রিমুভ করতে পারবেন। মনে করুন আপনি একটি স্যামসাং এর ফোন কিনলেন, এখন এর ভেতর স্যামসাং অনেক অ্যাপ ঢুকিয়ে রাখে সাধারন ভাবে সে অ্যাপ গুলো রিমুভ করাও সম্ভব নয়। তাই রুট করার মাধ্যমে এসকল অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ গুলো রিমুভ করে আপনি স্টোরেজ বাঁচাতে পারেন। 

তৃতীয়ত অনেক এমন ফোন আছে যেগুলোর ইন্টারনাল স্পেস অনেক কম হয়। মনে করুন ৮ জিবি বা ১৬ জিবি। তো এই ফোন গুলোতে যখন সফটওয়্যার ইন্সটল করা হয় তখন অনেক তাড়াতাড়ি ইন্টারনাল স্পেস শেষ হয়ে যায়। যদিও মেমোরি কার্ডে অ্যাপ গুলো মুভ করার অপশন থাকে। কিন্তু মেমোরি কার্ডে অ্যাপ মুভ করার পরেও কিছু ডাটা ইন্টারনাল স্টোরেজে থেকে যায়। ফলে ইন্টারনাল স্টোরেজে জায়গা খেয়ে থাকে। আপনি যদি ফোনটিকে রুট করে নেন, তবে কিছু বিশেষ অ্যাপস আছে তার সাহায্যে আপনার মেমোরি কার্ডকেই ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

রুটিং এর অসুবিধা সমূহ:

disadvantages of root android phone/mobile

সর্বপ্রথম অসুবিধা হলো আপনার ফোনটির যদি ওয়ারেন্টি থাকে তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। সব ফোন নির্মাতা কোম্পানিরা হয়তো এটা করে না, কিন্তু বেশির ভাগ বড় বড় কোম্পানি যেমন স্যামসাং, সনি, এইচটিসি ইত্যাদি রুট করাকে সমর্থন করে না। ফোন রুট করা হলে তারা সাথে সাথে ওয়ারেন্টি বাতিল করে দেয়, কারন রুট করার পরে আপনি যদি ফোনটির সাথে কোন গণ্ডগোল পাকিয়ে ফেলেন তবে তার দায়িত্ব এই কোম্পানিরা নিতে চাই না। তবে কিছু চাইনিজ কোম্পানি যেমন ওয়ান প্লাস বা সাওমি এরা কিন্তু রুট করাকে সমর্থন করে এবং আপনি ফোনটি রুট করলেও তারা ওয়ারেন্টি বহাল রাখে। 

দ্বিতীয় অসুবিধা হলো আপনি রুট করার সময় যদি কোন ধাপে সামান্য ভুল করে ফেলেন, তবে আপনার ফোনটি শুধু মাত্র একটি প্ল্যাস্টিক বা পলিমার এর বাক্সে পরিণত হতে পারে। একজন সাধারন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে। অনেক সময় ইউজার রা সঠিক ভাবে নির্দেশনা গুলো পালন না করেই ফোন রুট করতে আরম্ভ করে দেয়, ফলে প্রায়ই ভুল হয়ে যায়। অনেক সময় জলদি জলদি করতে গিয়ে অনেকে ধাপ গুলো লাফিয়ে চলে যায় ফলে ফোনের খারাপ অবস্থা হয়ে যায়।

তৃতীয় বিষয়টি হলো আপনি যদি একবার আপনার ফোনটিকে রুট করে নেন তবে আপনার ফোনটির সুরক্ষা বাবস্থা আর অ্যান্ড্রয়েড এর হাতে থাকবে না। আন্ড্রোয়েডের যে নিজস্ব সুরক্ষা স্তর সেটি একভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, আপনি তো সুরক্ষা স্তর ভেদ করেই এর শিকড়ে পৌঁছালেন। এখন অনেক ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার আছে যারা শুধু মাত্র রুট করা ফোনকেই আক্রান্ত করতে পারে। এবং ফোনটির অথবা আপনার তথ্যের নিরাপত্তা নষ্ট করতে পারে। তাই রুট করার সাথে সাথে অবশ্যই আপনি ফোনটির ইনবিল্ড সুরক্ষা স্তরটি নষ্ট করছেন।

চতুর্থত অসুবিধা হলো আপনার ফোনটি যদি সদ্য প্রাপ্ত নতুন ভার্সনে চলে তবে আপনার জন্য রুট এখনো সম্ভব নয়। মনে করুন আপনার ফোনটি প্রথমে ললিপপে চলতো তার পর আপনি মার্সম্যালো আপডেট পেলেন, এখন মার্সম্যালো নতুন ওএস ভার্সন হওয়াই এটার রুট করার পদ্ধতি পেতে আপনার সময় লাগতে পারে। কেনোনা রুট সবসময় বর্তমান প্রাপ্য অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন এর ত্রুটি থেকে করা হয়। যারা রুটিং পদ্ধতি আবিষ্কার করেন তারা সবসময় অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন এর ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে রুট করেন, এবং আপনাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন দিতে সক্ষম হোন। কিন্তু নতুন ভার্সন আসলে প্রথমে সেটার ত্রুটি খুঁজতে হয়, তো এতে রুটিং পদ্ধতি পেতে কিছু দেরি হতে পারে। আরেক বিষয় হলো, রুট করলে কিন্তু আপনি ফোনে অফিসিয়াল সফটওয়্যার আপডেট পাবেন না। যেটাকে ওটিএ আপডেট বলা হয়। তবে রুট করার পরে আপনি যেকোনো রম দিয়ে ফোনটিকে ফ্ল্যাশ করে নিতে পারেন।

 

Comments